লিখেছেন রুমানা পারভীন / Written by Rumana Parvin
জুলাই বিপ্লবের পর নতুন রকমের জাতীয়তাবাদীতার উন্মেষ ঘটবে বাংলাদেশে, আধুনিক এবং প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদ, সেটার আশায় বুক বেঁধেছিলাম।
কিন্তু যা দেখতে পাচ্ছি গণযোগাযোগমাধ্যমে, তাতে আশঙ্কিত হচ্ছি প্রতিদিন। আওয়ামী নৈরাজ্য থেকে মুক্তি পেয়েই মনে হচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী মৌলবাদীতার খবলে পড়েছে। আমার ধর্মীয় বিষয়াদিতে তেমন কোনো সুস্থির অবস্থান নেই বহুদিন। আস্তিক/নাস্তিক তর্ক আমার অযথা মনে হয়। কিন্তু, আওয়ামী দুঃশাসনের পতনের পর উগ্র মৌলবাদীতার যে কুৎসিত রুপ দেখতে পেলাম, যে উগ্রবাদীতায় বাংলাদেশের ঐতিহ্য, কৃষ্টি, শিল্প, ভাষা, ইতিহাস, সবই ভুলন্ঠিত হওয়ার উপক্রম, সেখানে ধর্মান্ধতা-ভিত্তিক রাজনীতির শক্তিশালী অবস্থান নেয়া খুব দুরূহ। জাতীয়তাবাদের প্রথম শর্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও বাংলাদেশী জাতির উন্নয়ন। এটিতে ধর্মের ব্যাপার বা অবস্থান গৌণ বা সেকেন্ডারি। সেই হিসেবে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বলীয়ান যে কারো পক্ষেই ধর্মীয় উগ্রবাদিতা মেনে নেয়া কষ্টের।
সেই কষ্টের পথে হাঁটছি। উদ্বেগ নিয়ে। স্বপ্ন যা ছিল, তা উঁবে গেছে। আতঙ্কিত বাংলাদেশ এর ভবিষ্যৎ নিয়ে যেখানে বাংলাদেশ একটি উগ্র মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়নি, এবং জাতীয়তাবাদ টিকে গেছে নিরন্তর। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে উগ্রবাদীদের সাধারণ ছাত্র/ছাত্রীরা ভোট দিল, তা তে ৭১-এর সমস্ত অর্জন মনে হচ্ছে ভেসে গেছে মৌলবাদী অন্ধকারে।


