Atheism in Bangladesh National National News Opinion Politics Politics News ইতিহাস ইসলাম আর্কাইভ ইসলাম ধর্ম ইসলামের ইতিহাস ধর্মের ভাইরাস নাস্তিকতা নাস্তিকতার দার্শনিক অবস্থানসমূহ মতামত

তরুণ রাজনীতি ও ইসলামপন্থী জোট—নতুন সমীকরণে কোন পথে দেশ?

লিখেছেন গাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম / ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

Written by Gazi Mohammad Saiful Islam / 07 February 2026

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে সারাদেশে জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, নেজাম-ই-ইসলাম পার্টির মতো ইসলামী শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করতে আকস্মিকভাবে ইসলামপন্থী দলগুলোর উত্থান ঘটে। এসব গোষ্ঠীর কিছু অংশের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী বক্তব্য, ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবি, ভাস্কর্য ভাঙচুর এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন যেমন ছায়ানট-এর ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচ্য হয়।

আসন্ন নির্বাচনে একটি উল্লেখযোগ্য আশঙ্কার বিষয় হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নেতৃত্বে সম্ভাব্য বৃহত্তর ইসলামী জোটের আত্মপ্রকাশ। দলটি পূর্বে ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। প্রাপ্ত ভোটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে দলটি সর্বোচ্চ ১২.১৩% ভোট পায়, আর ২০০৮ সালে পায় ৪.৭০% ভোট। এই ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিকতা বহন করে।

কিন্তু বর্তমান উদ্বেগের বিষয় হলো, এ দলটি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং অভ্যুত্থান-পরবর্তী তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপিকে নিয়ে বৃহত্তম ইসলামী জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ। যা ধারণা করছি, যদি আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে দলটি সরকার গঠনে সক্ষম হয় কিংবা শতাধিক আসনেও বিজয়ী হয়ে সংসদে অবস্থান নেয়, এটি আগামীর বাংলাদেশকে নিঃসন্দেহে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর আগ্রাসনে বিপর্যস্ত দেশ হিসেবে দেখা যাবে। এছাড়া দলটির আমির শফিকুর রহমান-এর একটি বক্তব্য, যেখানে তিনি কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যেখানে ঘরের বাইরে কর্মজীবী নারীদের প্রস্টিটিউশনের সঙ্গে তুলনা করতে দেখা যায়।ীমন মন্তব্য সারাদেশে নারীসমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে নারী অধিকার, সমতা এবং অংশগ্রহণের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। নিঃসন্দেহে, এমন ধর্মান্ধ উগ্রবাদী গোষ্ঠীদের সত্যিই যদি উত্থান হয়, এটি আশঙ্কার বিষয়। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব বৃদ্ধি পেলে রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ ও সাংস্কৃতিক চরিত্র নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *