রাজিব সাহা | ১০ নভেম্বর ২০২৫
বিবাহিত জীবনে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন ধরণের মতবিরোধ, ঝগড়া, ও সাংসারিক সমস্যার উদ্ভব হওয়া স্বাভাবিক। মানুষের একসাথে বসবাসের ফলে মতের অমিল ও সমস্যা সৃষ্টি হওয়াটাই প্রকৃতিগত। এই প্রেক্ষাপটে, যদি কোনো ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকে, তখন তার সাংসারিক জীবন আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একাধিক সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন, এবং এর সাথে যদি সেই ব্যক্তির চারিত্রিক দুর্বলতা যেমন নারীলোলুপতা, একাধিক বিবাহের প্রতি আসক্তি, কিংবা এতোগুলো স্ত্রী থাকার পরেও ঘরের সুন্দরী দাসীবাঁদীর দিকে নজর দেয়া বা অন্যান্য নারীদের প্রতি আকর্ষণ থেকে থাকে, তাহলে সেই পরিবারে অশান্তি এবং অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়া খুবই সম্ভব।
বিশেষত, যদি স্বামী তার স্ত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকে বা দাসীদের প্রতি কুনজর দিতে থাকে, দাসীবাঁদীদের সাথে যৌনাচারে লিপ্ত হয়, তখন স্ত্রীরা স্বাভাবিকভাবেই অসন্তুষ্ট ও বিরক্ত হবেন। স্ত্রীরা এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অধিকার ও সম্মান নিয়ে উদ্বিগ্ন হবেন, কারণ তাদের স্বামী তাদের প্রতি যে নৈতিক দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল, তা ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু যদি সেই স্বামী তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে, আল্লাহর ভয়ভীতি দেখিয়ে বা স্ত্রীদের তালাকের হুমকি ও ধমক দিয়ে নিজের দাসী ভোগ চালিয়ে যেতে থাকে, তখন সেই সংসার প্রকৃতপক্ষে এক ধরনের অত্যাচারের জায়গায় পরিণত হয়। স্ত্রীরা একপ্রকার বাধ্য হয়ে এই ধরনের অপমানজনক পরিস্থিতি সহ্য করতে বাধ্য হন, এবং তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
এই প্রসঙ্গে, নবী মুহাম্মদের জীবনের একটি বিশেষ ঘটনা গবেষণার আলোচনায় উঠে আসে, যেখানে তিনি একবার তার সব স্ত্রীকে তালাক দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন এবং একইসাথে নতুন বিবি আনার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন। তার স্ত্রীদের প্রতি এই হুমকি স্পষ্টতই একটি ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করেছিল, যা তাদেরকে একটি কঠিন অবস্থানে ফেলে দিয়েছিল। নবীর জীবনের এই ঘটনাটি ইসলামিক ইতিহাসে বেশ বিতর্কিত, এবং একে ঘিরে বিভিন্ন আলেম ও ঐতিহাসিকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। যদিও অনেক ইসলামিক আলেম এই ঘটনা সম্পর্কে আলোচনা করতে সংকোচ বোধ করেন এবং একে লুকানোর চেষ্টা করেন, তবুও ঐতিহাসিক দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে সত্য ঘটনা প্রকাশ পেয়ে যায়।
নবী মুহাম্মদের স্ত্রীদের জন্য জীবনের সবচাইতে কঠিন সময় ছিল, যখন নবী মুহাম্মদ যৌনদাসী মারিয়া কিবতিয়ার সাথে হাফসার ঘরে যৌনকর্ম করার সময় হাফসার কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে, এর পরবর্তী সময়টুকু। সেই সময়ে লজ্জায় মুহাম্মদ প্রতিজ্ঞা করে বসে যে, সে আর মারিয়া কিবতিয়ার সাথে যৌনকর্ম করবে না। হাফসাকে এই লোভও দেখানো হয় যে, এই কথা আয়িশাকে না বললে হাফসার পিতা উমর আবু বকরের পরে ইসলামই রাষ্ট্রের খলিফা হবে। নবী মুহাম্মদ হাফসাকে এই ঘটনাটি গোপন করতে বলেন, সে যেন অন্য স্ত্রী বিশেষ করে আয়িশাকে এই ঘটনাটি না বলে দেয়। কারণ আমরা সকলেই কমবেশি জানি যে, আয়িশা খুব স্পষ্টভাষী মেয়ে ছিলেন, নবী মুখের ওপর মাঝে মাঝেই কথা বলতেন। তাই বিশেষভাবে আয়িশাকে যেন এই ঘটনা না বলা হয়, সেইদিকে নবী মুহাম্মদ বিশেষভাবে জোর দিয়েছিলেন।
কিন্তু নবীর মনে তখন মারিয়ার প্রতি কামনার জোয়ার। মারিয়ার সাথে যৌনকর্ম না করে তিনি থাকতে পারছিলেন না। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় যে, মারিয়া কিবতিয়া ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী এবং নবী তার সাথে সঙ্গমের জন্য খুবই উদ্গ্রীব থাকতেন। তাই মারিয়ার সাথে যৌনকর্ম করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করার পরেও নবীর মনে তখন মারিয়ার সাথে সঙ্গমের ইচ্ছে জাগ্রত হয়। ঐদিকে নবী মুহাম্মদের স্ত্রীগণ খুবই খুশি ছিলেন এই ভেবে যে, নবী আর মারিয়ার সাথে যৌনকর্ম করছেন না। কিন্তু নবী নিজেকে আর আটকে রাখতে পারেননি, আবারও মারিয়ার সাথে সেই কর্ম করে বসেন। প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে মারিয়ার সাথে আবারও যৌনকর্ম করায় মুহাম্মদের স্ত্রীদের একাংশ নবীর বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে, এর ফলাফল হিসেবে নবী মুহাম্মদের কাছে সূরা তাহরীমের আয়াতগুলো নাজিল হয়। নবী একসাথে তার সকল বিদ্রোহী স্ত্রীকে তালাক দেয়ার হুমকি দেন। আসলে আল্লাহই এই হুমকি দেন সূরা নাজিল করে। নবী যে মারিয়া কিবতিয়ার সাথে যৌনকর্ম করতে পারছেন না, এতে আল্লাহ মহা নাখোশ হয়েছিলেন তা বলাই বাহুল্য।
যাইহোক। এরপরে নবী মারিয়া কিবতিয়ার বাসায় চলে যান এবং সেখানে তিনি দীর্ঘ একমাস অবস্থান করেন। অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে নবী এই সময়ে তার সকল স্ত্রীদের একত্রে তালাক দেয়ার হুমকিতে অটল থাকেন। আল্লাহ বরাবরের মতই ছিলেন নবীর দলে, তিনি আয়াত নাজিল করে নবীকে দাসী সেক্স করতে উৎসাহ দিতে থাকেন। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব কেন হয়েছিল, পরিস্থিতি কতটা মারাত্মক পর্যায়ে গিয়েছিল, সেগুলো নিয়েই আমাদের এই লেখাটি। আশাকরি পাঠক মন দিয়ে দলিল প্রমাণগুলো পড়বেন এবং যাচাই করে দেখবেন। এরপরে সিদ্ধান্ত নেবেন যে, এই বিষয়গুলো কতখানি নবীসূলভ আর কতখানি একজন অতিমাত্রায় কামুক ও লম্পট লোকের ঘরোয়া ঝগড়াঝাটি। সাত আসমানের ওপর বসে থাকা আল্লাহ পাক যিনি মহাবিশ্বের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, যিনি মহাবিশ্ব পরিচালনা করেন, তিনি নবীর ঘরোয়া ঝগড়ায় নবীর পক্ষ হয়ে দাসীর সাথে যৌনকর্মের জন্য উকালতি করছেন, সেটি মুখ বুজে মেনে না নিলে সব বিবিদের তালাকের হুমকিধামকি দিচ্ছেন এবং নবীকে দাসী সেক্স করতে উৎসাহ দিচ্ছেন, এগুলো নিয়ে হাসির নাটক সিনেমা হিসেবে তৈরি করা হলেও মানা যেতো। কিন্তু বিষয়গুলো ধর্মীয় বিশ্বাস এবং লক্ষ কোটি মানুষ এগুলো অন্ধভাবে বিশ্বাস করে, এটাই এক উদ্ভট বিষয়।


