লিখেছেন বুরহান উদ্দীন / Written By Burhan Uddin (১৫ই জানুয়ারী / 15 January 2026)
বর্তমান বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্র ও সমাজের বিভিন্ন উদারতার জায়গাগুলো সংকুচিত হচ্ছে ক্রমান্বয়ে।যুক্তরাজ্যের মতো দেশে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, মুক্তমত, দর্শন ও ধর্মীয় উদারতার চর্চা প্রচলিত হলেও, বাংলাদেশে সম্প্রতি আমরা এমন একটি পরিস্থিতি লক্ষ্য করছি যা উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং ছাত্ররাজনীতিতে ইসলামী উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাম্পসাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নিরংকুশ বিজয় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পূর্ণ সমর্থন, দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গভীর প্রভাবের ইঙ্গিত বহন করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্থানে ইসলামী ছাত্র শিবিরের চরমপন্থী ইসলামিক কর্মসূচি প্রকাশ্যে আয়োজন ও উদযাপনের ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধীরে ধীরে মৌলবাদী ধারণা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। সুইডিশ রেডিও (Sveriges Radio)-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের ইসলামী উগ্রবাদীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে এবং শক্তি সঞ্চয় করছে।
২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর আইনশৃঙ্খলার অবনতি এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইসলামী উগ্রবাদীরা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে তাদের অবস্থান দৃঢ় করছে। এভাবে ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় ও শিক্ষাসংক্রান্ত ক্ষেত্রগুলোতে তাদের প্রভাব বৃদ্ধি পেলে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতে তালেবানি শাসনের দিকে এগোবার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসু নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের বিজয় ও সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের তাদের প্রতি সমর্থন আগামীতে গণতান্ত্রিক একটি দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলের উগ্রবাদী, মৌলবাদী গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করবে। এই মৌলবাদী চরমপন্থার উল্লম্ফন যদি থামানো না যায়, বাংলাদেশ শরীয়া ভিত্তিক একটি বর্বর মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রে পরিণত হবে, যা আধুনিক-মনষ্ক কারোরই মনঃপুত হবার কথা নয়। নাগরিক সমাজকে সমস্ত ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বার আহবান জানাই।
